ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুমের অভাবে অনলাইনে ব্রাউজ করার ইচ্ছা জাগে মনে। বিশেষ করে ফেসবুকের মতো সোশাল মিডিয়ায় প্রবেশের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
গবেষকরা ঘুমের পরিমাণের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের সম্পর্ক দেখতে চেয়েছেন। এখানে ইন্টারনেট ব্যবহার ঘুমের ওপর কি প্রভাব ফেলে তা দেখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ জন শিক্ষার্থীর ওপর টানা ১ সপ্তাহের গবেষণা পরিচালনা করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের ওপর নজরদারি করা হয়। দেখা হয়, তারা ফোনের কতক্ষণ কথা বলেন বা টেক্সটা পাঠান এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সকালে তাদের ঘুম নিয়ে রিপোর্ট দিতেন।
আবার গোটা দিন শেষে তারা একটি জরিপে অংশ নিতেন। গোটা সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেন তারা। একটি বিশেষ ইন্টারভিউয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা। গবেষণায় ‘ঘুমের ঋণ’ বিষয়কেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ, কতটুকু ঘুম হয়েছে এবং কতটুকু দরকার ছিল। বাকিটুকু ‘ঘুমের ঋণ’ বলে বিবেচিত হয়। শিক্ষার্থীদের বয়স, লিঙ্গ এবং লেখাপড়ার চাপ ইত্যাদি বিবেচনা করে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, ঘুমের অভাবের সঙ্গে মেজাজ খারাপ, উৎপাদনশীলতার হ্রাস এবং ফেসবুকে ঢুঁ মারার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
প্রধান গবেষক গ্লোরিয়া মার্ক বলেন, যখনই আপনি কম ঘুমাচ্ছেন তখনই সব ক্ষতির মুখে যাচ্ছে। আর যখন মানসিকতার চরম খারাপ অবস্থা, তখনই ফেসবুকে চলে যাচ্ছেন আপনি। এর আগেও বহু গবেষণায় প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ঘুমের বিষয়টি উঠে এসেছে। জার্নাল অব চাইল্ড নিউরোলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, বাতি নেভানোর পর যে টিনএজাররা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের ঘুম কম হয়। প্রযুক্তি যন্ত্রের ব্লু লাইট মস্তিষ্ক উত্তেজিত করে। এটি দেহে মেলাটনিন হরমোন ক্ষরণে বাধা প্রদান করে। এই হরমোন ঘুমের ভাব আনে। এতে ঘুমের অভ্যাস এবং গুণগতমানের পরিবর্তন ঘটে।